বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে চরম বিপত্তিতে পড়লো জলাপাইগুড়ির যুবতীকে - The News Lion

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে চরম বিপত্তিতে পড়লো জলাপাইগুড়ির যুবতীকে

 


দি নিউজ লায়ন;   শিলিগুড়ি প্রধাননগরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে চরম বিপত্তিতে পড়তে হলো জলাপাইগুড়ির যুবতীকে। আপৎকালিন পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মিললো ঠাঁই। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসায় সাড়া রুগীর। যুবতীর অভিযোগ অক্সিজেন পরিমিত না দেওয়ায় তার মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, তা বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলায় হাসপাতালের তরফে মেলে হুমকি। 


কোনোরকম এম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই রুগীকে ৩০মিনিটের মধ্যে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই পরিস্থিতিতে কোনক্রমে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রুগীকে তড়িঘড়ি। জানা গিয়েছে জলপাইগুড়ির বাবুপাড়া নিবাসী যুবতী তার করোনা আক্রান্ত মাকে নিয়ে শিলিগুড়ির প্রধাননগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। 


যুবতী জানান ৩রা মে তার মায়ের শরীরে অক্সিজেনের সামান্য ঘাটতি দেখা দেওয়ায় তিনি সময় বিলম্ব না করে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মাকে। অন্যদিকে তার দাদা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতাল চিকিৎসারত অবস্থায় রয়েছে, আক্রান্ত তার বাবাও। ওই যুবতীর অভিযোগ তার মায়ের অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ভর্তি করা হলেও দুদিন পেড়িয়ে গেলে তার মায়ের শারীরিক অবস্থার  ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে।


 অক্সিজেন চললেও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয় রুগীর। যুবতী বেসরকারি হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা নার্সকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলো কোনো সদুত্তর না পেয়ে  চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্ঞানত থাকার কারনে রুগীর অক্সিজেনের মাত্রা জানতে চান যুবতী, এবং এরপরই তিনি লক্ষ করেন অক্সিজেন মাত্রা কমছে ক্রমাগত। সে অবস্থায় তার মায়ের চার লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন অথচ ওই বেসরকারি হাসপাতালের তরফে প্রতি রুগীকে বাঁধাধরা এক লিটার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। আর সেকারনে তার মায়ের মস্তিকে অক্সিজেনে ঘাটতির জেরে হাইপোকসিয়া দেখা দিয়েছে। 


কেন চাহিদার তুলনায় কম পরিমান অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে রুগীনিকে সে প্রসঙ্গে চিকিৎসকেদের কাছে জানতে চাইলে চিকিৎসকেরা ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ফেরানোর জন্য কম অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে এ ধরণের মিথ্যে তথ্য প্রকাশ করেন যুবতীর কাছে। রুগীর সমস্যা ক্রমাগত বাড়াতে থাকায় যুবতী তার চিকিৎসা বিজ্ঞানের  জ্ঞান থেকেই নার্সদের কাছে তার মায়ের অক্সিজেন বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি করতে লাগেন।


 যুবতী বলেন কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেন পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হলেও ফের চিকিৎসক রাউন্ডে আসতেই সে অক্সিজেনের পরিমান চার লিটার থেকে নামিয়ে এক লিটার করে দেওয়া হয়। এরপরই রাউন্ড শেষে বেড়িয়ে এসেই ওই চিকিৎসক রুগী পরিবারের সদস্য ওই যুবতীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি সরাসরি হাসপাতালে ম্যানেজারকে ডেকে চিকিৎসক হুমকির সুরে জানান এক্ষুনি এই রুগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিন। 


সেই ছবি সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই পরিস্থিতিতে গুরুতর করোনারুগীকে স্থানান্তরের জন্য কোনোরকম অক্সিজেন এম্বুলেন্স পর্যন্ত দিতে অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোনক্রমে আপৎকালীন পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাণ রক্ষা পায় কোভিড আক্রান্ত রুগীর। পরিবারের সদস্যরা জানান উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রুগীকে পরিমাণমতো ১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। 


বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন আক্রান্ত। লক্ষাধিক টাকা বিল করেও যে পরিষেবা তারা পাননি, কিন্তু বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের রুগী। এ পুরো বিষয়টিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবার উভয় তরফেই শিলিগুড়ি প্রধান নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও এই বিষয়ে ওই হাসপাতালের কর্ণধার চিকিৎসক সিপি শর্মার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.